কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২৬ এ ০৯:৪৭ AM
কন্টেন্ট: পাতা

অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, এমপি
মাননীয় প্রতিমন্ত্রী
বিদ্যুৎ,জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বাংলাদেশের একজন তরুণ ও প্রতিশ্রুতিশীল রাজনীতিবিদ। তার দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা কোনো আকস্মিক আবির্ভাব নয়; বরং রাজপথের ধারাবাহিক সংগ্রাম, ফ্যাসিস্ট সরকারের নির্যাতন এবং জনগণের প্রতি নিখাদ ভালোবাসার মধ্য দিয়ে নিজের অবস্থানকে তিনি সুদৃঢ় করেছেন। মাঠের রাজনীতি থেকে শুরু করে জাতীয় রাজনীতির শীর্ষ পর্যায়ের প্রতিটি ধাপে রয়েছে তার মেধা, দূরদর্শিতা এবং ত্যাগের অনন্য নজির। ফ্যাসিস্টসরকারের শত নির্যাতন, দেড় শতাধিক মিথ্যা মামলা এবং বারবার কারাবরণ - কোনো কিছুই তাকে আদর্শের পথ থেকে বিচ্যুত করতে পারেনি। বরং প্রতিটি প্রতিকূলতা ও বাধা-বিপত্তি পেরিয়ে তিনি হয়ে উঠেছেন তৃণমূলের মানুষের আস্থার প্রতীক ও একজন পরীক্ষিত নেতা।
পরিবার ও শিক্ষাজীবন
ত্রয়োদশজাতীয় সংসদ নির্বাচনে যশোর-৩ (সদর) সংসদীয় আসন থেকে ‘ধানের শীষ’ প্রতীক নিয়ে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। বর্তমানে তিনি বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য, সাবেক মন্ত্রী মরহুম তরিকুল ইসলাম ও বিএনপির ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং যশোর সরকারি সিটি কলেজের সাবেক উপাধ্যক্ষ নার্গিস বেগমের কনিষ্ঠ পুত্র।
ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষায় বেড়ে ওঠা অমিত শৈশব থেকেই ছোটদের স্নেহ এবং বয়োজ্যেষ্ঠদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা প্রদর্শনকে জীবনের অবিচ্ছেদ্য মূল্যবোধ বলে মনে করেন। ছোটবেলা থেকেই তিনি তুখোড় মেধাবী। যশোর শহরের ইনস্টিটিউট প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তার শিক্ষাজীবনের হাতে খড়ি। এরপর তিনি যশোর সেক্রেড হার্ট জুনিয়র হাই স্কুল ও যশোর দাউদ পাবলিক স্কুলে কিছুকাল লেখাপড়া করেন। সেক্রেডহার্ট থেকে তিনি প্রাথমিকে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি লাভ করেন। পরবর্তীতে ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজে ভর্তি হন এবং সেখান থেকে বিজ্ঞান বিভাগে প্রথম বিভাগে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। তিনি যশোর শিক্ষা বোর্ডের সম্মিলিত মেধা তালিকায় স্থান পাওয়া একজন কৃতি ছাত্র। পরবর্তীতে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকিউলার বায়োলজি বিভাগ থেকে প্রথম শ্রেণীতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। এছাড়া তিনি নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ ডিগ্রি অর্জন করেন। তার সহধর্মিণী সোহানা পারভীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েট। তাদের দুই পুত্র সন্তান রয়েছে। বড় ছেলে আরশ আরীব ইসলাম জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে ঢাকার রাজপথে লাখো তরুণের সাথে সক্রিয় ছিলেন।
রাজনৈতিক জীবন
বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের আদর্শে উজ্জীবিত অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এক আপসহীন ও দেশপ্রেমিক রাজনীতিক। তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) জাতীয় নির্বাহী কমিটির ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি কখনো অন্যায়ের কাছে মাথা নত করেননি। বিগত ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে তিনি যশোর, খুলনা ও ঢাকার রাজপথে বলিষ্ঠ নেতৃত্ব দিয়েছেন। স্বৈরাচারী সরকারের রোষানলে পড়ে তাকে অবর্ণনীয় নিপীড়ন সহ্য করতে হয়েছে। তার বিরুদ্ধে দায়ের করা হয় দেড় শতাধিক ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলা। প্রতিহিংসার এই চরম মুহূর্তেও যশোর, ঢাকা ও নড়াইলের কারাগারে তাকে সাত (০৭) বার কারাবরণ করতে হয়েছে। শুধুতাই নয়, তার বাসভবন ও চলন্ত গাড়ির ওপর একাধিকবার হামলা চালানো হয়েছে এবং বহুবার তার প্রাণনাশের অপচেষ্টা করা হয়েছে।
রক্তচক্ষু ও নির্যাতন উপেক্ষা করে রাজপথে সদা সোচ্চার অনিন্দ্য ইসলাম অমিত দলের নেতাকর্মীদের লড়াই-সংগ্রামে উজ্জীবিত করার পাশাপাশি ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে সাধারণ মানুষের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়েছেন; যা খুলনা বিভাগে ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনকে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দেয়। প্রতিটি লড়াই-সংগ্রামে সাধারণ মানুষকে সম্পৃক্ত করে তিনি প্রমাণ করেছেন যে, জনগণের শক্তিই হলো যে কোনো পরিবর্তনের মূল ভিত্তি। ফ্যাসিবাদবিরোধী সকল আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে তিনি সাধারণ শিক্ষার্থীদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সর্বাত্মক অংশগ্রহণ করেন। তিনি মনে করেন, এই ছাত্র গণ-অভ্যুত্থান ছিল স্বৈরাচারমুক্ত একটি নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের অনিবার্য অধ্যায়; যা মুক্তিকামী মানুষের ইতিহাসে চিরভাস্বর হয়ে থাকবে।
সামাজিক কর্মকাণ্ড
বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ন্যায়সঙ্গত আন্দোলনে তিনি নিয়মিত অংশগ্রহণ করেছেন। শিক্ষার্থীদের বেতন বৃদ্ধির প্রতিবাদ, আবাসিক ছাত্রদলের হলের খাবারের মানোন্নয়ন এবং কেমিস্ট, বায়োকেমিস্ট, অ্যাপ্লাইড কেমিস্ট ও মাইক্রোবায়োলজিস্টদের পেশাগত মর্যাদা ও নিরাপত্তা দাবির আন্দোলনে প্রথম সারিতে থেকে তিনি অংশ নিয়েছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালীন বন্যাদুর্গতদের সহায়তায় পরিচালিত প্রতিটি ত্রাণ কার্যক্রমে তিনি নিয়মিত অংশ নিতেন। জন্মভূমি যশোরের বিভিন্ন ধর্মীয়, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের পৃষ্ঠপোষকতা করে চলেছেন আজ অবধি। বিগত করোনা মহামারির সময় জীবনবাজি রেখে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত যশোরে নিজস্ব উদ্যোগে স্বাস্থ্যসেবা সার্ভিস গড়ে তোলেন; যা দেশব্যাপী প্রশংসিত হয়। নিজসামর্থ্য অনুযায়ী খাবার, ওষুধ ও অক্সিজেন সিলিন্ডার নিয়ে যশোরবাসীর পাশে দাঁড়ান তিনি।